ভোর ৬:৩০ থেকে সকাল ৮:৩০— ফজরের আঁধার ভেঙে ঈদগাহ মাঠজুড়ে প্রার্থনা, প্রীতি আর শান্তির বার্তা
ছবি মুক্তিবাণী
ভোরের কোমল আলোয় ঝিলমিল করা মৌলভীবাজারের বুকে আজ ঈদুল ফিতরের সুবহে সাদিক এলো এক অনন্য মহিমায়। তিনটি জামাতের সোনালি পরশে মুখরিত হয়ে উঠেছিল শহরের প্রধান শাহী ঈদগাহ মাঠ, মসজিদগুলো এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। ভোর ৬:৩০ থেকে সকাল ৮:৩০ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত জামাতগুলোতে প্রায়২০ থেকে ৩০ হাজার মুসল্লির পদচারণায় প্রকম্পিত হয়েছিল মাটি। শিশুর হাসি, বৃদ্ধের দোয়া, যুবকের উৎসাহ— সব মিলিয়ে ঈদের প্রথম প্রহরেই জেগে উঠেছিল এক অদৃশ্য ঐক্যের সুর।
ছবি মুক্তিবাণী
প্রথম জামাত: ভোরের শিশিরে ঈদের স্বাগত ভোর ৬:৩০। আকাশে তখনো জড়ানো ছিল নীলাভ আঁধার। ঠিক তখনই প্রথম জামাতের আযান দিয়ে শুরু হলো ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। পরিবারগুলোর সমন্বয়ে এই জামাতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও সবার আগে ঈদের নামাজে শরিক হতে পেরে মন ভরে গেল। ভোরের শীতল হাওয়ায় দোয়া করার অনুভূতিটাই আলাদা!”
ছবি মুক্তিবাণী
দ্বিতীয় জামাত: সূর্যোদয়ের সঙ্গে প্রার্থনার তীব্রতা সকাল ৭:৩০। শাহী ঈদগাহ মাঠে জমে উঠলো জামাতের মূল লহরী। এই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লির সমাগমে পরিপূর্ণ হয়েছিল মাঠের প্রতিটি কোণ। ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা আব্দুল হক বলেন, *”একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার দোয়া করেছি সবার জন্য। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব— এখানে তা প্রত্যক্ষ করলাম।”
ছবি মুক্তিবাণী
তৃতীয় জামাত: দেরিতে উঠলেও উৎসবে কমতি নেই! সকাল ৮:৩০। শেষ জামাতটিতে যোগ দিলেন প্রায় ৮ হাজার মানুষ। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেকেই এই জামাতকে বেছে নিয়েছিলেন সময়ের সুবিধার জন্য। কলেজ ছাত্র মাহদি জামান বলেন বলেন, “গত রাতে পরিবারের সাথে ঈদের কেনা কাটা করেত গিয়ে ঘুমাতে দেরি হয়েছিল। তবু শেষ জামাতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হইনি। ঈদের চাঁদ যেমন সবার জন্য, নামাজও তেমন!”
ছবি মুক্তিবাণী
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলির মাধ্যমে পালন করলেন ঈদের ঐতিহ্য। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ঘটেনি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা। পাশাপাশি, ফিতরা বিতরণের মাধ্যমে গরিবদের মুখে হাসি ফোটানোর কর্মসূচিও চলেছে জোরেশোরে।
ছবি মুক্তিবাণী
মৌলভীবাজারের ঈদুল ফিতরের এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং বহুত্ববাদী সমাজের জীবন্ত দলিল। তিন জামাতের তিন রকম আবহ, কিন্তু একটাই লক্ষ্য— সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে মিলিত হয়ে মানবতার জয়গান গাওয়া। আজকের এই সমাবেশ যেন বলছে: “ঈদ কেবল উৎসব নয়, এটি হৃদয়ে হৃদয়ে সেতুবন্ধনেরও নাম।”
ছবি মুক্তিবাণী
“মৌলভীবাজারে ঈদ মানেই— ঐক্যের মেলবন্ধন, প্রার্থনার ধ্বনি, আর হাজার হাজার হাসির প্রতিধ্বনি!”
ছবি মুক্তিবাণী
ছবি মুক্তিবাণী
ছবি মুক্তিবাণী
পাঠকের মন্তব্য